This is default featured slide 1 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 2 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 3 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 4 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 5 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com.

গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

চাঁদনী রাতের প্রেমময় গল্প- আপনি একবার হলেও পড়ুন।



মনে আছে তোমার? সে'দিন রাতে- চাঁদ দেখার নেশায়,তুমি-আমি পদ্মার পাড়ে! রাত তখন ১১:২০ মিনিট। তখনো চাঁদ উঠেনি। সারে বারো'টার পরে চাঁদ উঠবে। ঘুটঘুটে অন্ধকার! দু'জনের হাতেই,এন্ড্রোয়েড 'হাই পাওয়ার' এর দুটো টর্চ লাইট সংযুক্ত স্মার্ট ফোন। গ্যাস লাইট এমনকি ম্যাচও সাথে ছিলো না। (যতক্ষন ওর সাথে থাকি,ম্যাচ/গ্যাস এমনকি ব্রি/সিগারেট কিচ্ছু রাখিনা। কোনো ক্রমে দেইখা ফালাইলে,অস্থির বানায়া ছাইড়া দিবো) রাতের বেলায়,এই জায়গা'টা নাকি খুব ভয়ংকর! কোনো না কোনো সময়,এইখানে একটা কিছু ঘটবেই। সবচে' বড় কথা,ছিনতাই কারি'রা প্রতি রাইতে এইখানে আড্ডা দেয়। দিনের বেলায়,এখানে হাজারো মানুষের ঢল থাকে। -লাবু,চলো তো যাইগে? চাঁদ হ্লার'পু,আইজকা উঠবো না। _কাল্কে রাত্রে,বারোটা ষোঁল মিনিটে চাঁদ উঠছিলো। আমি টাইম দেখছিলাম। আজ একটু পর উঠবো... তারমানে,আইজকা নিশ্চিৎ কট খাইছি! হয় ভূতের কাছে,নাহয় ছিন্তাইকারী খানকির পুলা'গো হাতে। মাঝ রাতে- নদীর পাড়ে বসে,চাঁদ দেখার 'সখ' বহু দিনের। দু'জন একসাথে,চাঁদের রুপে গা ভিঁজাবো! শর্ত ছিলো- একজন-আরেক জনের দিকে তাকাতে পারবো বাট কারো প্রসংশা কুড়াবো না। বাসায় কেউ নেই- 'ওর' আজ বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই। একটু পাগ্লামি হলে,ক্ষতি কি? এই'টুকু পাগ্লামি না হলে ভালবাসা'টা যেনো পূর্ণতাই পাবেনা। চাঁদ উঠেছিলো... রাত তখন ১২:৩৬ মিনিট! ঘুটঘুটে অন্ধকার! বালু উড়ছে,হঠাৎ ই বাতাস শুরু হয়ে গেলো। আকাশে এতটুকুও মেঘ নেই। তার মানে,বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। বালু উড়ে এসে,চুল সহ শরির ভিঁজিয়ে দিচ্ছে। বালু'র বৃষ্টি'তে ভিঁজতেছি দু'জন... তোমার বাম হাত- দু'রানের চিপায় নিয়া,কেঁচকি মাইরা বসে আছি। ডান হাত দুটো একে অপরের মুষ্টিতে,মিলনে কাতর! তুমি-আমি,চাঁদ দেখতেছি..... ঘুটঘুটে অন্ধকার! -'তুমি,চাদের চেয়েও সুন্দর! দু'টু চাদ,আজ একসাথে পেয়েছি...' এক ঝটকায়,বাম হাত খুলে নিলে। হাতের মুট ছেড়ে দিয়ে__ (শর্ত মানতে পারিনি,হুট করেই প্রসংশা করে ফেললাম। এতটুকু ধৈর্য্য,আমার ছিলো না। ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ কি..? সেটা,জানা ছিলো না।) এক ফাঁলি মেঘ এসে,চাঁদের মুখে জড়ো হলো... অন্ধকার! ঠোটের কোণে,হাসি টুকুও মিলিয়ে গেছে.... -'চলো... _আরেকটু বসি -কয়টা বাজে দেখছো..? _মারছেরে.... দেড়'টা বাইজা গেছে। কোমড়ে-জামায় গুঁজে রাখা চাবি টা নিয়ে,দরজা খুলে সুইচ দিলাম। লাইট জ্বলে উঠেই,আবার নিভে গেলো। কারেন্ট গেছে___ বাকি রাত টুকুও,চাঁদ দেখেই কেটেছে... জানালা খোলা। তোমার সমস্থ শরীর,ছড়িয়ে রাখা আমার ওপর। গতরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছি... কিছু সময় পর পর,বার বার চুমো খাচ্ছি.... তোমার সমস্থ নিঃশ্বাস,নেশা হয়ে আমার ভিতরে ঢুকছে......

ইরাবতীর সুখের সংসার- না পড়লে চরম মিস।



- আসসালামু আলাইকুম, গুড মর্নিং সুইটহার্ট। - ওয়ালাইকুমুস সালাম, আরেকটু ঘুমাতে দাও প্লিজ। - না, আর ঘুমাতে হবে না। ৭.০০ টা বেজে গেছে। অফিস যাবে তাড়াতাড়ি ওঠো! - ধুর! বাদ দাও অফিসের চিন্তা। আজ একটু ঘুমিয়ে নেই। কাল থেকে সকাল সকাল উঠে যাবো - কাল বলতে কোন দিন নাই। যা করার আজ থেকে করতে হবে! তাড়াতাড়ি ওঠো! নয়তো আমি পানি ঢেলে দিচ্ছি। ইরার চেঁচামেচিতে আর শুয়ে থাকতে পারি না। চোখ কচলাতে কচলাতে তাকাই। দুচোখে এখনো দুনিয়ার ঘুম। চোখ কচলানোর মধ্যেই টের পাই কপালের মধ্যে তার ঠোটের আলতো এক ছোয়া। আর দুই কাধে মাখনের মতো নরম দুটো হাতের স্পর্শ। পরক্ষনেই ধাক্কা দিয়ে সোজা করে বসিয়ে দেয় । আমি একটু চোখ খুলে থাকাই। আলসেমি জড়ানোই থাকে। ইরা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার এসে বলে- - এখনো ঘুম পাচ্ছে? - হুম। - বুঝেছি, পানি লাগবে! - না। ইরা কপট রাগ দেখিয়ে আমাকে বিছানা থেকে টান দিয়ে নামিয়ে দেয়। রক্তচক্ষু করে ঝাড়ি দিয়ে বলে, বাথরুমে ঢুকো। আমি সুবোধ বালকের মত বাথরুমে ঢুকে যাই। ফ্রেশ হয়ে আসি। চা খাই। হঠাৎ ঘড়ির তাকিয়ে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। তাড়াহুড়ো করে বের হই। পেছন থেকে ইরা ডাক দেয়- - এই যে শুনো। - তাড়াতাড়ি বল। - উফ! ভূলোবাবু! ভুলে যাও কেন?, বুঝি না। আমার সারাদিনের এনার্জি দিয়ে যাও। ইরা গজরাতে গজরাতে আমার পাশে আসে। আমার সোজাসুজি সামনে দাড়িয়ে দুই হাত আমার দুই কাধে রাখে। চোখবুঝে দাড়িয়ে থাকে। আমি তার কপালে আদর দিয়ে একটা চুম্বন একে দেই। তারপর অফিসের উদ্দেশ্যে চলি। ***** ইরিনা জামান ইরা, আমার স্ত্রী। শুধু স্ত্রী না, আমার সব। ইরা ফর্সা রঙের অধিকারী না । তবুও আমার কাছে সে সুন্দরী । তার ডাগর ডাগর দুই নয়নের দিকে তাকিয়ে আমি পাড়ি দিতে পারি এ মহাবিশ্ব। আমি আমার ইরাকে ভালোবাসি। ইরাকে আমি হারাতে চাইনা । ইরার সাথে আমার প্রথম দেখা তার বাসায়। অনেকটা সিনেমার কাহিনী! ঘটনাটা খুলে বলি। তখন থাকতাম বাড্ডার আব্দুল্লাহবাগ । একটা মেসে আমি আর আমার এক বন্ধু সহ আরো কয়েকজন। বেশ কয়েকদিন ছিলাম ঐ এলাকায়। আমরা যে গলিটাতে থাকতাম তার শেষ মাথায় ইরাদের বাসা। ইরা প্রতিদিন সকালে কলেজে যেত,দুপুরে আসত। আবার বিকালে কোচিংয়ে যেত সন্ধ্যায় আসত। একদিন ইরা সন্ধ্যার দিকে কোচিং থেকে আসছিল। আমার রুমমেটরা গলিতে অড্ডা দিচ্ছিল। সাথে আমার ঐ বন্ধুটিও ছিল। ইরাকে ওরা রাস্তায় দাড় করালো। যে যা পারছে মন্তব্য ছুড়ছে । আমি একটু দূরে দোকানে বসেছিলাম। মাঝে মধ্যে তাকাচ্ছিলাম । দৃষ্টি টা ওখানেই আটকে গেল । ইরার কোন ভাবান্তর নেই । সবাই মিলে তাকে হেনস্থা করছে। আমি দেখলাম সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে । গাল বেয়ে পানি পড়ছে । আমি বসা থেকে উঠলাম। হঠাৎ কেউ একজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ওয়া সরে গেলো। ইরা তার বাসায় চলে গেলো। আমিও আমার যায়গায় বসে পড়লাম। মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় গিয়ে বন্ধুকে বললাম চল ঘুরে আসি। বাইকে করে সোঝা ইরাদের বাসায় চলে গেলাম। ইরার আম্মু গেট খুলে দিলেন। আমি বললাম আন্টি ইরাকে ডাকেন। আন্টি অনেকটা চমকে গেলেন। আমিও মোটামুটিভাবে আরেকটু জোর দিয়ে বললাম ইরাকে ডাকেন। ডাকা লাগলো না। চেচামেচিতে ইরা নিজেই বেরিয়ে আসল। আমি আমার বন্ধুকে ধাক্কা দিয়ে ইরার সামনে দিয়ে বললাম সরি বল। ইতস্থ করছে দেখে জোরে ধমক দিলাম। তারপর তাকে হালকা একটু নসিহত করলাম । রাগে গজগজ করতে বেরিয়ে গেলো। আমি বন্ধুর পক্ষ থেকে আবার ইরার কাছে ক্ষমা চাইলাম। সেদিন প্রচন্ড রেগে ছিলাম। আমি আমার রুমমেটদের সাথে মারামারি করেছিলাম । সেদিনের পর থেকে ইরাদের পরিবারের সাথে আমার সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে ইরা আমার কাছে আসত। আন্টি এটা সেটা বানিয়ে পাঠাতেন। ঘটনার মাসখানেক পর ইরা কোচিং ছেড়ে দিলো। টাকার অভাবে। তাই আমি মাঝে মাঝে ইরাকে তার বাসায় গিয়ে পড়াতাম। আমি জেনেছিলাম ইরা আর তার মা একা থাকেন বাসায়। ইরার বাবা নেই। মা বাসায় সেলাই কাজ করেন। ইরাও মায়ের সাথে কাজ করে পড়ালেখার ফাঁকে। শুধু যে পড়ানো তা না। আমি এক আকর্ষণে তার কাছে ছুটে যেতাম । ইরার কোন বন্ধু বান্ধবী ছিল না । আমি যে আস্তে আস্তে খুব গভীর ভাবে ইরার প্রেমে পড়ে গিয়েছি, সে কথা নিজে বুঝলেও তাকে বুঝাতে আমার ভয় লাগতো । যদি মনে করে সে গরীব বলে আমি দয়া করছি । আমার কাছ থেকে চলে যায়, আমি তখন কি করব ? সেদিন পড়ানো শেষ করে খুব সাহস করে ইরার হাতে দুই লাইনের একটা চিঠি দিয়ে আসলাম। বললাম উত্তর আমাকে মোবাইলে জানাবে। একদিন দিন পার হয়ে গেল কোন উত্তর নাই। দ্বিতীয় দিন আমার সেই রুমমেট প্লাস বন্ধু যাকে ইরার কাছে সরি বলতে বলেছিলাম সে আমাকে বলল ইরা নাকি তাকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে যাওয়ার জন্য। তাকে জড়িয়ে ধরলাম । সে শুধু বলেছিল – আমার উপর আর রাগ করিস না আর। আমি ভাল হয়ে গেছি। ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে শুধু জিজ্ঞেস করলাম , কবে যেতে বলেছে ? ইরা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি যাওয়ার পর ইরা প্রথম যে কথা বলল। তা হলো- আমার সারা জীবনের সঙ্গী হতে পারবে? কানে কানে বললাম – তোমার সঙ্গী হলে আমার রাণী হয়ে থাকবে তো ? ইরা হাসলো । আস্তে আস্তে দিন যায় । রাত পোহায় । আমার পড়াশুনা শেষে একটা চাকরিও জুটে যায় । আম্মাকে ইরার ছবি দেখালাম। আমার কোন পছন্দ আমার আব্বা আম্মা ফেলে দেন নি কোনদিন। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। শুধু জিজ্ঞেস করলেন এই মেয়েটাকে বিয়ে করলে আমি খুশি হবো কি না? আমার খুশিতেই আমার আব্বা আম্মা খুশি। আমিও ইরার মত বউ পেয়ে খুশি। ******** অফিস থেকে ফিরতে বিকাল হয়ে যায়। অসরের নামাজ শেষ হয় হয় প্রায়। বাসায় এসে কলিং টিপ দেই। ইরা দরজা পুরো না খুলে একটু ফাক করে জিজ্ঞেস করে- -নামাজ পড়ে এসেছো? -না! এইতো পড়বো। -ইরা রাগ হয়ে যায়! জগতের আশ্চর্য কয়েকটি সৌন্দর্যের একটি হল ডাগর ডাগর নয়নের মেয়েদের নাকের পটকরা ফুলিয়ে রাগ করতে দেখা। সেই সৌন্দর্যটা ইরার আছে। আমি দেখি। মন ভরে দেখি। কিন্তু বেশিক্ষণ দেখা যায় না। তার আগেই দড়াম করে দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং ওপাশ থেকে মায়াবিনীর চেঁচামেচি শোনা যায়, "নো নামাজ নো এন্ট্রি, নামাজ না পড়লে এই বাসার দরজা চিরতরে বন্ধ। দেখি নামাজ না পড়ে কে এই বাসায় ঢুকে। ভুলোবাবু, আলসেবাবু, ঘুমবাবু কোন বাবুকেই আমি চিনি না।" আমি হাসি। গর্বের হাসি। তৃপ্তির হাসি। হাসতে হাসতে চলে যাই মা’বূদের কাছে। শুকরিয়া জানাই এমন একজন মানুষ আমার তাকদীরে লিখে দেওয়ার জন্য।

প্রিয় মুখটাও যখন অচেনা

...ড্রাইভার-ড্রাইভার গাড়ি থামাও,লাশের জন্য সাদা কাপড় কিনতে হবে। রাস্তার পাশে গাড়ী থামালাম,গাড়ীতে কান্নার আহাজারি,৪ জন লোক কে নিয়ে রওনা হয়েছি যশোরের দিকে,১ জন লাশের বউ,লাশের কখনও বউ থাকতে নেই,৪ জনের এক জন হচ্ছে মৃত মানুষ টির বউ অন্যরা তাঁর ছেলে-মেয়ে,একজন জানতে চাইলো আমার নাম কি? বলাম -মতি।
বলেন 'মতি! তুমি লাশের কাপড় টি পড়িয়ে দাও।"
আমি এক কথায় বলে দিলাম, -পারবো না।"
লাশে গাড়ী চালায় সত্য,তবে আমি এক মাত্র প্রিয় মানুষের লাশের মুখ দেখি, এই ছাড়া আর কোন মৃত- লাশে মুখ দেখি না,আমার বড় বেশি ভয় করে লাশের মুখ দেখলে।
রাত হলে ঘুম হয় না,আমি লাশ দেখলে ভয় পাই,তারপরও চাকরি নিয়েছি পরিবহনে তাইতো লাশের গাড়ী চালায়।
লাশ টি সাদা কাপড়ে মোড়ানো হয়েছে,আমি আবার গাড়ী চালাতে লাগলাম। . যশোরে এর আগে কখনও আমার যাওয়া হয়নি।
কাঞ্জন-দা বলেছিল আমায় সময় করে নিয়ে যাবে,কাঞ্জন-দা'র বাড়ি যশোর ঝিকরগাছা,কাঞ্জন-দা আর আমি এক সাথে বাসা ভাড়া করে থাকি,এই-তো সে দিন কাঞ্জন-দা বুকে ব্যথা উঠেছিল বলে, আমি নিজে হাসপাতারে ভর্তি করিয়ে দিয়ে এসেছিলাম কাঞ্জন-দা কে।
আজ অবশ্য ভেবেছিলাম তাকে দেখতে যাবো,কিন্তু না তা আর হলো না।
গাড়ী ভাড়া পেয়ে রওনা হলাম যশোরের দিকে।
ইস কঞ্জন-দা থাকলে ভালো হতো,তাকে নিয়ে যেতাম ভাড়া শেষে কঞ্জন-দা বাড়িতে প্রয়োজনে ২ দিন বেড়াতাম।
কাঞ্জন-দা আমায় প্রায় বলতো, -আচ্ছা! মতি,যদি আমি মারা যায়,তুই কিআমার লাশ দেখবি?" আর আমি তখন বলতাম, "কি যে বলো কাঞ্জন-দা, তোমার লাশ দেখবো কি?
নিজের গাড়ীতে করে তোমায় শসানে পোড়াবো।"
কাঞ্জন-দা আমার মুখে এমন কথা শুনে প্রায় বলতেন ভগবান সবার মঙ্গল করুন। . ফেরি ঘাট পার হচ্ছে লাশের গাড়ি,আমার খুব ঘুম পচ্ছে তাই এক কাপ চা খেয়ে নিলাম।
পদ্মার ইলিশ দিয়ে ভাত খেতে ভুল করিনি।
গাড়িতে সবাই কেঁদে যাচ্ছে।
ওদের কান্না দেখে আমার একটুও খারাপ্ লাগছে না।
কত লাশ এই গাড়িতে উঠিয়েছি,প্রথম-্র প্রথম মায়া লাগতো,মানুষের কান্না দেখে। এখন আর কষ্ট লাগে না।
চার-দিক থেকে ফোন আসছে,সবাই জানতে চাচ্ছে লাশের গাড়ী বাড়ি পৌছাতে আর কত সময় লাগবে?
শ্মসান ঘাটে সব আয়োজন করা হয়েছে,আমি অবাক হই এক জন মানুষ নিশ্বাস ত্যাগ করার পর তাকে সবাই লাশ বলে ডাকে।
এই যেনো এক অলিখিত সংবিদ্ধান।
লাশের গাড়ী ঝিকারগাছা এসে পৌছিয়েছে,আমি গাড়ি হতে লাশ টি নামিয়ে দিলাম।
লাশ টি শ্মসান নিয়ে গেছে, চন্দন-গাছের কাঠ দিয়ে লাশ টি কে সাজানো হচ্ছে।
আমি হাত-মুখ ধুতে পুকুর ঘাটে দিকে যাচ্ছিলাম,পুকুরের ওপাড়ে কিছু মুসলিম মানুষ দাড়িয়ে রয়েছে,মনে হচ্ছে তাঁরা মৃত্য মানুষ টি প্রিয় জন।
তাঁরা মুসলিম বলে শ্মসান প্রবেশ করছে না।কেউ এক জন আমায় নাম ধরে ডাকছে পুকুরের ওপাড় হতে। - মতি! মতি। আমি এগিয়ে গেলাম মানুষের ভিড়ে,আমি কি স্বপ্নে দেখছি রিয়াদ- আরিফ আর টিপু ভাই কে,তাঁরা আমার পাশের ফ্লাটে থাকে ঢাকায়,আরিফ আমায় জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো। -মতি! আমাদের কাঞ্জন-দা না ফেরার দেশে চলে গেছে।"
আমি এই কথা শোনা মাত্র শসানের দিকে দৌড়াতে লাগলাম,তবে কি কাল রাতে আমি যে লাশ টি নিয়ে এসেছিলাম,সে আমার কাঞ্জন- দা !!!
আমার চোখে অশ্রু গড়াতে লাগলো,তবে কেন গাড়ীতে থাকা লোক গুলো একটি বারও কাঞ্জন-দা নাম ধরে ডাকলো না? কেন সবাই বার-বার লাশ বলে ডাকলো? আমি শ্মসান ঘাটে এসে প্রবেশ করতে চোখে পড়লো চন্দন গাছের কাঠ দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলছে,লাশের সমাধি প্রায় শেষ, আমি চুপ টি করে বসে পড়লাম,আর বলতে লাগলাম, -কথা দিয়ে সব কথা রাখা যায় না,আমি তাঁর লাশ নিয়ে এসেছি শ্মসান ঘাটে, আমি তাঁর মুখ টি খানা দেখিতে পারিনি।"

করুণ প্রেম কাহিনী

ছেলেটার নাম অনিক।
নম্র, ভদ্র ছেলে হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত।
ছাত্র হিসেবে খুব একটা খারাপ না। ক্লাস রোল সবসময় ১০ এর মধ্যেই থাকে।
.
দেখতেও বেশ হ্যান্ডসাম।
অনিকের বয়স তখন ১৪ বছর। ক্লাস ৯ এ উঠেছে মাত্র।
অনিকের বাবা সেনা অফিসার।
কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট থেকে তার বাবা বগুড়া ক্যান্টমেন্ট এ ট্রান্সফার হয়েছে।
বাবার চাকুরির সুবাদে সে বগুড়াতে আসে।
সেখানে সে ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড হাই-স্কুল এ পড়াশোনা শুরু করে।
.
একই ক্লাসে পড়ে তানিয়া। পুলিশ সুপারের মেয়ে।
তখন এপ্রিল মাস। হটাত করেই তানিয়ার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেক-আপ হয়।
একদিন ইকবাল স্যারের বাংলা প্রাইভেটে প্রথম অনিকের সাথে তানিয়ার দেখা হয়।
সে তার আচার আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়।
তাই সে তাইম পাস করবে বলে অনিক-কেই নির্বাচন করে।
তানিয়া অনিক কে খুব ভালবেসে ফেলার অভিনয় করে।
তার মতে অনিক ছেলেটা দেখতে ঠিক সাকিব আল-হাসান এর মত।
.
অনিক অবশ্য ক্রিকেট খুব ভালো খেলতে পারে।
কয়েক দিন যেতে না যেতেই অনিক কে তানিয়া তার মনের কথা জানায়।
সে সামনা-সামনিই বলে ফেলে তার ভাল লাগার কথা।
তানিয়া এই দিকে সিউর ছিল যে, তার মত সুন্দরি মেয়ের মেয়ের প্রস্তাব অনিক কখনও না করতে পারবে না।
অথচ তানিয়াকে তার সপ্নের রাজ্য থেকে বাস্তবতায় ফিরে আনে অনিকের এই কথাটি, “দেখ আমি এসব ফালতু জিনিস কে জাস্ট Hate করি। আমাকে আর এসব কথা আর কখনো ভুলেও বলবানা।”
.
ওইদিন তানিয়া খুব কস্ট পায়। এবার সে সত্যি সত্যিই অনিক-কে ভালবেসে ফেলে।
কেঁদে কেঁদে পার করে সারা রাত। সব সময় তার মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। আর তা হল “আমার কিসে অভাব?”

.
অপরদিকে অনিক নিজে নিজে চিন্তা করে,” কি লাভ এই relation করে?” আমার বাবা সরকারের কাছে থেকে সামান্য বেতন পায়।
আর আমি তা দিয়ে অন্যের মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলব? পড়াশোনা বাদ দিয়ে এই মূল্যবান সময় অযথা নস্ট করব?
মানুষের মত মানুষ হতে পারলে এরকম কত্ত মেয়ে Life এ আসবে।”
কখনও কখনও ইচ্ছা থাকলেও করা যায় না। এখনই ভবিষ্যৎ গড়ার সময়।
আগে না হয় নিজে প্রতিষ্ঠিত হই। বাবা, মা-র স্বপ্ন পুরণ করি।
.
আধুনিকতার এই যুগে সবাই GF/BF নিয়ে ব্যাস্ত থাকলেও আমি না হয় আমি নামায, পড়াশোনা নিয়েই ব্যাস্ত থাকি।
এত আধুনিকতার ভিড়ে আমি না হয় সাধারন ভাবেই বেঁচে থাকি।

ঝড়া গোলাপ

দরিদ্র পিতার একমাত্র আদরের কণ্যা তমা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
মেয়েটি যখন নবম শ্রেণিতে পড়ে তখনই বিধাতা তার উপর বিমুখ হয়।
যার কারনে তমার স্নেহ মাখা পৃথিবি থেকে সকল সুখ সাচ্ছন্দ কেড়ে নিয়ে একটি বিস্তৃত শূন্যতায় ভাসিয়ে দিয়ে তুলে নেয় তার সবচেয়ে আপন জন, সবচেয়ে মঙ্গলময়ী মা জননি কে।
তমা ছোট সময় থেকেই বিবেক সম্পন্ন মেয়ে। সে ভাগ্য কে মেনে নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকে।
জীবন সুচনায় প্রিয়জন কে হারিয়ে সে ভালবাসতে শিখেছে।
সে তার মন দিয়ে সবাই কে আপন করে নিতে চায়।
তমার ভালবাসা তার আপন ভুবন কে যেন দোলা দিয়ে যায়। যথেস্ট ব্যাস্ততার মাঝে কাটে তার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত।
এমন সময় তমার জীবনে উঠে আসে অশোক।।
ঝড়ের বেগে অশোক তমার দুয়ারে আবির্ভূত হয় এক ডালি ভালবাসার লাল গোলাপ নিয়ে।
অশোকের প্রিয় ফুল লাল গোলাপ। এই গোলাপের অস্তিত্ত যেন অশোকের রক্ত কণিকার সাথে মিশে আছে।
তেমনি মা হারানো তমাকে নিয়েও তার বাবার রয়েছে অনেক সপ্ন , অনেক আশা।
বাবার ইচ্ছা পুরণ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে তমা স্কুল জীবনের অধ্যয়নে মনোযোগ দেয়।
তখন এস.এস.সি’র রেজাল্ট বের হয়েছে। তমা তখন কলেজ লাইফে পদার্পণ করে।
প্রথম দিন কলেজে গিয়েই দেখা হয় অশোক নামের ছেলেটির সাথে।
ঠিক তখনই অশোককে মনে প্রাণে ভালবেসে ফেলে সে।
২য় দিন কলেজে যাবার পথে পেছন থেকে ডাক দেয় আশোক।
তমা পিছনে ফিরতেই দেখে অশোক লাল গোলাপ হাতে এক নজরে তাকিয়ে আছে।
আস্তে আস্তে তমার কাছে গিয়ে গোলাপ টা তার খোপার মাঝে গুজে দিয়ে বলে; “কলেজ জীবনের সূচনা লগ্নে সামান্য উপহার।”
তমা নিঃশব্দে কলেজে চলে যায়। খোপা থেকে গোলাপ নামিয়ে হাতে নেয়। সে গোলাপটির প্রত্যেকটি পাপড়িতে ভালবাসার ছোঁয়া অনুভব করে।
জীবনের প্রথম প্রেম এড়িয়ে যাওয়া ভীষণ কস্ট। তমা পারল না অশোককে ফিরিয়ে দিতে। অজানা ছেলেটিকে কঠিন বাধনে জড়িয়ে নিল সে।
তমা জানত পৃথিবিতে প্রেম কারো জন্য থেমে থাকে না। কিন্তু অশোকের জন্য থেমে যায় তমার জীবন।
ওদের সম্পর্কটা গোপন থাকলেও কিছু দিনের মধ্যে জানা যায় উভয় পরিবার।
অশোক ছিল ধণী পিতার একমাত্র সন্তান। তাই অশোকের বাবা কিছুতেই তাদের সম্পর্কটা মেনে নিতে পারছিল না।
তখন থেকে শুরু হয় তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ।
তখন অশোকের পড়াশনা প্রায় শেষের পথে। পড়াশোনা শেষ করে অশোক বিদেশ যায়। দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় তমা্র হাতে একটা লাল গোলাপ দেয় আর বলে; “তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করিও।”
দিন যায়, রাত যায়। কাটতে থাকে তমার একাকি জীবন। হটাৎ একদিন তমা ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তার বাবা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়।
ডাক্তার রিপোর্টে বলে, তমার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে।
বিষয়টি তমার কাছে গোপন রাখা হলেও তার বুঝতে বাঁকি রইল না।
তমা বিছানায় শুয়ে শুয়ে অশোকের কাছে চিঠি লিখে।
চিঠি পাওয়া মাত্রই অশোক পাগলের মত ছুটে আসে। শীতের এক সন্ধায় যখন তমা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই তার পাশে উপস্থিত হয়।
তখন তমা অশোকের হাত ধরে বলতে লাগল; “আমি আর পারলাম না তোমার পবিত্র ভালবাসার মূল্য দিতে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আশীর্বাদ না করলেও অভিশাপ দিয়ো না।
আমি এ জীবনে যেমন তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি পরজীবনেও সেভাবেই অপেক্ষা করব।”
কথাগুলো অশোকের আর সহ্য হচ্ছিল না। সে বেদনা জড়িত কন্ঠে বলতে লাগল; “আমার ভালবাসায় কি কোন ফাঁক ছিল?”
এরই ফাঁকে তমা অশোকের হাতে হাত রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
অশোক নিঃসঙ্গতা মেনে নিতে না পেরে নিজেও অচিনপুরে পাড়ি জমায়।
এভাবেই ঝরে পড়ে ২টি ফুটন্ত গোলাপ।