This is default featured slide 1 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 2 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 3 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 4 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com

This is default featured slide 5 title

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam. blogger theme by www.tiutorialbd.blogspot.com.

ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

"ইসলামের দৃস্টিতে হস্তমৈথুন"

বর্তমান যুবসমাজের মাঝে এটি ব্যাপক হারে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অনেকেই এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
আসুন আজ আমরা দেখি ধর্মীয়ভাবে হস্তমৈথুন বৈধ কি না?
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ-
"তোমরা যদি কোনো বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দে বা মতানৈক্যে পৌঁছো, তাহলে তার সমাধানের জন্যে সেটি প্রেরণ কর আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে" [ সূরা নিসাঃ ৫৯ ]
-
আল্লাহ ও রাসূল; অর্থাৎ, কোরআন ও হাদীস।
তাহলে আগে দেখতে হবে পবিত্র কোরআন ঠিক কী বলছে "হস্তমৈথুন" সম্পর্কে?
-
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"বল, 'আল্লাহ্ অশ্লীল আচরণের নির্দেশ দেন না। তোমরা কী আল্লাহ্ সম্পর্কে এমন কিছু বলতেছ যা তোমরা জানো না?'' [ সূরা আরাফঃ ২৮ ]
-
এখানে একটি শব্দ এসেছে "ফাহিসাত" মানে, অশ্লীল, নোংরা, অবৈধ সেক্স, যৌন উত্তেজক পিকচার/ভিডিও/আলাপ, যৌন উস্কানী কাপড়, হস্তমৈথুন, উত্তেজনামূলক কাউকে স্পর্শ করা .......
মূলকথা, যে জিনিসগুলো অবৈধ সেক্সকে কামুদ্দীপনা যোগাবে সেটাই "ফাহিসাত"।
একটি ছোট্ট উদাহরণ দিলে আরও স্পষ্ট হবে; টাইগার/স্পিড/বেয়ার/হুয়িস্কী ইত্যাদী ড্রিকসগুলোর নাম কিন্তু কোরআনে পাবেন না; কিন্তু এ জাতীয় সব কোল্ডড্রীংসে কিন্তু কমবেশ এ্যালকোহল আছে।
আর পবিত্র কোরআনে সূরা মায়িদাঃ৯০ আয়াতে স্পষ্ট "মদ" বা এ্যালকোহল হারাম ঘোষণা করেছেন।
তাই পবিত্র কোরআনে আলাদা আলাদাভাবে নাম ধরে হুইস্কি/বেয়ার/টাইগার হারাম করেননি; বরং তাদের মূল এ্যালকোহলকেই হারাম করেছেন। সেহেতু ঐগুলিও হারাম।
তদ্রুপ, কোরআনে আলাদা আলাদাভাবে সেক্স/অবৈধ মেলামেশা /ধ্বর্ষণ/বেপর্দা/ হস্তমৈথুন/ সেক্সালাপ/সেক্স ভিডিও/পিকচার হারাম করেরনি; বরং তিনি এদের মূল একটি শব্দ "ফাহিসাত" দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
অতএব, উক্ত আয়াত থেকে প্রমাণ হয় "হস্তমৈথুন" করা হারাম ও নিষিদ্ধ।
-
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"বল, 'নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা বা ফাহিসাত" [ সূরা আরাফঃ ৩৩ ]
-
একটু খেয়াল করেছেন, উক্ত আয়াতে "প্রকাশ্য + গোপন ফাহিসাত" বলা আছে।
এর মানে কী?
"গোপন ফাহিসাত" মানে, অন্যান্য সেক্সের ব্যাপার সময়ে প্রকাশ হলেও হস্তমৈথুন করার বিষয়টি আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। ঐ ব্যক্তি ও আল্লাহ সাক্ষী থাকে।
এটি এতটায় গোপন ফাহিসাত বা হস্তমৈথুন।
উক্ত আয়াত স্পষ্ট বলছে, "হস্তমৈথুন" করা হারাম।
-
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"তোমরা কী ভেবে দেখেছো তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে? সেটি কী তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?" [ সূরা ওয়াকি'আঃ ৫৮-৫৯ ]
-
আল্লাহ পৃথিবীর সকল কোরআন পাঠকারীকে উক্ত প্রশ্ন করেছেন।
সত্যিই, এই বীর্য বা স্পার্মগুলো আল্লাহর রহমতে সৃষ্টি হয়।
যদি এভাবে আল্লাহর দেওয়া জিনিসকে অবৈধ পথে "হস্তমৈথুন" করে নিঃশেষ করে ফেলে; তাহলে একটি পুরুষের ভবিষ্যত প্রজন্ম কী হবে?
একটি পুরুষে ১০ বিলিয়ন যদি শুক্রাণু থাকে; আর ঐ পুরুষ যদি প্রতিদিন এভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণে হস্তমৈথুন করে বীর্য শেষ করে ফেলে; তাহলে তো সে একদিন বাবা হবার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে।
তাহলে স্পষ্ট তো বোঝা যাই, হস্তমৈথুন করা হারাম।
-
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"দারিদ্রের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, আমিই তোমাদের ও তাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি। প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক অশ্লীল বা ফাহিসাতের কাজের নিকটেও যাবে না" [ সূরা আনআমঃ ১৫১ ]
-
হস্তমৈথুন করার ফলে আসলে ভবিষ্যত প্রজন্ম বা সন্তানদেরকেই হত্যা করা হচ্ছে।
অনেক পুরুষরা ভাবে, সন্তান হলে মুখ বাড়বে, গরীব হয়ে যাবে ; তাই অনেকে সেক্স করে হস্তমৈথুনভাবে।
এটারও ঘৃণা বলে উল্লেখ করেছে উক্ত আয়াত।
পরের অংশ বলছে, গোপনেও ফাহিসাতের নিকটে না যেতে"_____
মানে, এসব হস্তমৈথুন যিনা-ব্যাভিচারের সহায়ক।
আগের অংশেও বলেছি।
-
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"আর তোমরা যিনার নিকটবর্তী হয়ো না, ইহা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ" [ সূরা বাণী-ইস্রাইলঃ ৩২ ]
-
উক্ত আয়াতে, "হস্তমৈথুন"কে যিনা বা ব্যবিচারের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
কারণ, আয়াতটি খেয়াল করুন....
"ইহা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ"
তারমানে, যে জিনিস বা উপায় সমূহ অশ্লীল-নোংরা ও নিকৃষ্ট আচরণ সেটাই যিনা।
আর "হস্তমৈথুন" এটা যে একটা অশ্লীল ও নোংরা কাজ এটা যে কোনো সাধারণ পাবলিক বুঝে।
এটা নিকৃষ্ট একটা আচরণ। তাই "হস্তমৈথুন" যিনার একটি উপকরণ বটে।
তাই আয়াতানুযায়ী হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ।
-
হস্তমৈথুন এটা একটি মন্দ কাজঃ
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"এই সমস্তের মধ্যে যেগুলি মন্দ সেইগুলি তোমার প্রতিপালকের নিকটও ঘৃণ্য" [ সূরা বাণী-ইস্রাইলঃ ৩৮ ]
-
হস্তমৈথুন এটা যে নিকৃষ্ট কাজ সেটা জ্ঞানবান সুস্থ মস্তিষ্কের যে কেউ বলবে।
যদি হস্তমৈথুন খারাপ-ই না হত, তাহলে তো আর যুবক শ্রেণীরা বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার মত লুকিয়ে লুকিয়ে টয়লেট-বাথরুমে গিয়ে করত না।
তাই হস্তমৈথুন করা আল্লাহর কাছেও ঘৃণ্য।
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"(হে মুমিনগণ), তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করিও না" [ সূরা বাকারাঃ ১৯৫ ]
-
হস্তমৈথুন এটা ব্যক্তি হাত দিয়ে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলছে।
দেহ ও স্বাস্থের ক্ষতি করে ফেলছে; চোখের জ্যোতি, শুক্রানু শুকিয়ে যাওয়া, রোগ-প্রতিরোগ ক্ষমতা কমে যাওয়া, অবসাদ ও বিষন্ন লাগা....
এসব গুলো হস্তমৈথুন এর জন্য হয়ে থাকে। এই হস্তমৈথুন তরুণ-যুবক-যুবতীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই উক্ত আয়াতানুযায়ীও হস্তমৈথুন করা হারাম।
-
কিয়ামতের দিন ব্যক্তি হাত সাক্ষ্য দিবে সে হস্তমৈথুন করেছিলঃ
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"আমি আজ [ কিয়ামতের দিন ] মানুষদের মুখ মোহর করিয়া দিব, ইহাদের হস্ত কথা বলিবে আমার সহিত এবং ইহাদের চরণ সাক্ষ্য দিবে ইহাদের কৃতকর্মের" [ সূরা ইয়াসিনঃ ৬৫ ]
-
পবিত্র কোরআন বলছেঃ
"পরিশেষে যখন উহারা জাহান্নামের সন্নিকটে পৌঁছিবে তখন উহাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক উহাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিবে, উহাদের বিরুদ্ধে।
জাহান্নামীরা উহাদের ত্বককে জিজ্ঞাসা করিবে, 'তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেছ কেন?' উত্তরে উহারা বলিবে, 'আল্লাহ্, যিনি আমাদিগকে বাকশক্তি দিয়াছেন তিনি সমস্ত কিছুকে বাকশক্তি দিয়াছেন। তিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন প্রথমবার এবং তাঁহারই নিকটে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।'
'তোমরা কিছু গোপন করিতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না; উপরন্তু তোমরা মনে করিতে যে, তোমরা যাহা করিতে তাহার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না" [ সূরা হা-মীম-সেজদাঃ ২০-২২ ]
-
উক্ত আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, যারা হস্তমৈথুনকারী তারা সেদিন কত লাঞ্চিত হবে; তাদের নিজের হাত সেদিন এসব হস্তমৈথুন করার কথা প্রকাশ্যে বলবে।
ফেবুতে লেংটা মেয়ের পিক দেখে দেখে হস্তমৈথুন করছে যে তা সব গুটি গুটি করে ঐ হাত বলবে; দেহের প্রতিটি অংশ এসব হস্তমৈথুনকারীর কথা ফাঁস করে দিবে।
-
-
:
আশা করি, লেখাটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন "হস্তমৈথুন" করা হারাম ও নিষিদ্ধ।
এ কদিন কোরআন খুঁজে ফিরে আয়াত গুলো কালেক্ট করেছি।
কারণ, একজন ভাই দ্বীনের সঠিক বিষয়ে সঠিক ধারণা পাবে; ভুল করলে সংশোধন হতে পারবে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার এত প্রচেষ্টা।
আশা করি, আপনি আপনার নিকটস্থ ভাই-বন্ধুদেরকেও এ হস্তমৈথুন সম্পর্কে উক্ত লেখাটি পৌঁছিয়ে দিবেন।
এতে প্রচার করার জন্য আপনিও সওয়াব পাবেন।
-
সহীহ্ বোখারী'তে আছেঃ
নবী(সাঃ) বলেছেনঃ যদি আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াতও জানো; তাহলে তা প্রচার করে দাও"


#অচিনপুরের_আইয়ুব

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আহলে হাদীস যুবসংঘ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। যা আপনার জানা প্রয়োজন।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
"কুল হা-যিহী সাবীলী আদ'ঊ ইলাল্লা-হি 'আলা বাছীরাতিন আনা ওয়া মানিত্তাবা'আনী; ওয়া সুবহা-নাল্লা-হি ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন"।
অর্থঃ বলুন ইহাই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই। (সুরা ইউসুফ-১০৮)


'আহলেহাদীছ' অর্থ কুরআন ও হাদীছের অনুসারী। দুনিয়ার মানুষকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মর্মমূলে জমায়েত করার জন্য ছাহাবায়ে কেরামের যুগ হতে চলে আসা নির্ভেজাল ইসলামী আন্দোলনই 'আহলেহাদীছ আন্দোলন'। 'আহলেহাদীছ' কোনো মাযহাব বা মতবাদের নাম নয়; এটি একটি পথের নাম। সে পথ আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ অহি-র পথ; পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের পথ। ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম ও সালফে ছালেহীন সর্বদা এ পথেই দাওয়াত দিয়ে গেছেন। মানুষের ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবনের যাবতীয় হেদায়েত এ পথেই মওজুদ রয়েছে। 'আহলেহাদীছ আন্দোলন সেই পথেই ডাকে। এই আন্দোলন মুমিনের ইহকালীন মঙ্গল ও পরকালীন মুক্তির আন্দোলন।
সংগঠনের নামঃ
বাংলাতে- বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ
আরবীতে- জমঈয়তে শুব্বানে আহলিল হাদীছ বাংলাদেশ
ইংলিশ- Bangladesh Ahlehadeeth Youth Association
প্রতিষ্ঠাকালঃ ৫ই ফেব্রুয়ারী ১৯৭৮ খৃঃ, রবিবার
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
নির্ভেজাল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাতের যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জন করা। আক্বীদা ও আমলের সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের সার্বিক সংস্কার সাধন আহলেহাদীছ আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য।
মূলনীতিঃ বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘের প্রধান মূলনীতি ৫টি।
১. কিতাব ও সুন্নাতের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা
( এর অর্থ- পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত আদেশ-নিষেধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাকে নিঃশর্তভাবে ও বিনা দ্বিধায় কবুল করে নেওয়া ও সে অনুযায়ী আমল করা)
২. তাক্বলীদে শাখছী বা অন্ধ ব্যক্তিপূজার অপনোদন
( তাক্বলীদ অর্থ- শারঈ বিষয়ে বিনা দলীলে কারো কোনো কথাকে চোখ বুঁজে মেনে নেওয়া। তাক্বলীদ দু'প্রকার- জাতীয় ও বিজাতীয়। জাতীয় তাক্বলীদ বলতে ধর্মের নামে মুসলিম সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন মাযহাব ও তরীকার অন্ধ অনুসরণ বুঝায়। বিজাতীয় তাক্বলীদ বলতে বৈষয়িক ব্যাপারের নামে সমাজে প্রচলিত পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রভৃতি বিজাতীয় মতবাদের অন্ধ অনুসরণ বুঝায়)
৩. ইজতেহাদ বা শরী'আত গবেষণার দুয়ার উন্মুক্তকরণ
( ইজতিহাদ অর্থ- যুগ-জিজ্ঞাসার জওয়াব পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ হতে বের করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। এই অধিকার ক্বিয়ামত পর্যন্ত সকল যুগের সকল যোগ্য আলেমের জন্য খোলা রাখা)
৪. সকল সমস্যায় ইসলামকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে পরিগ্রহণ
( এর অর্থ- ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবনের সকল সমস্যায় ইসলামকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে গ্রহন করা)
৫.মুসলিম সংহতি দৃঢ়করণ
( এর অর্থ- পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আদেশ-নিষেধকে নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়ার ভিত্তিতে মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলা এবং মুসলিম উম্মাহর সার্বিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া )
উপরোক্ত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতি সমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ' চায় এমন একটি ইসলামী সমাজ, যেখানে থাকবেনা প্রগতির নামে কোনো বিজাতীয় মতবাদ; থাকবেনা ইসলামের নামে কোনোরুপ মাযহাবী সংকীর্ণতাবাদ।
কর্মসূচীঃ
বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ- এর কর্মসূচী ৪টি। যথা- ১. তাবলীগ, ২. তানযীম, ৩. তারবিয়াত ও ৪. তাজদীদে মিল্লাত।
১. তাবলীগ বা প্রচারঃ
এ দফার করণীয় হলো, তরুণ ছাত্র ও যুবসমাজের নিকট নির্ভেজাল তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। তাদেরকে যাবতীয় রকমের শিরক, বিদ'আত ও তাক্বলীদী ফির্কাবন্দীর বেড়াজাল হতে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও খোলা মনে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী নিজের জীবন ও পরিবার গঠনে উদ্বুদ্ধ করা। তাদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন এবং জীবনের সকল দিক ও বিভাগে উহার পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।
২. তানযীম বা সংগঠনঃ
এ দফার করণীয় হলো, যেসকল যুবক নিজেদেরকে খাঁটি ইসলামী চরিত্রে গড়ে তুলতে এবং সমাজের বুকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী জীবনবিধান কায়েমের আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত, তাদেরকে এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।
জনশক্তি স্তরঃ এ সংগঠনের জনশক্তি স্তর ৩টি। যথা- প্রাথমিক সদস্য, কর্মী ও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য। অনধিক ৩২ বছরের যে সকল তরুণ ছাত্র ও যুবক ক) নিয়মিত ছালাত আদায় করেন খ) কুরআন ও সুন্নাহর সিদ্ধান্তকে বিনা শর্তে মেনে নেওয়ার স্বীকৃতি দেন গ) নির্ধারিত সিলেবাস অধ্যয়নপূর্বক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ঘ) সংগঠনের নির্দেশ পালনে প্রস্তুত থাকেন এবং ঙ) ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষনে রাযী থাকেন। তিনি নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে এই সংগঠনের 'প্রাথমিক সদস্য' হিসেবে গণ্য হবেন। এভাবে ধাপে ধাপে পরবর্তী স্তরে উত্তীর্ণ হবেন। এছাড়া শাখা, এলাকা, উপযেলা, যেলা ও কেন্দ্র এই পাঁচটি সাংগঠনিক স্তর রয়েছে।
৩. তারবিয়াত বা প্রশিক্ষনঃ
এ দফার উদ্দেশ্য, সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ যুবকদের নির্ভেজাল তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে যিন্দাদিল মর্দে মুজাহিদ রুপে গড়ে তোলা এবং ধর্মের নামে প্রচলিত যাবতীয় কুসংস্কার ও জাহেলিয়াতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় ইসলামকে বিজয়ী করার মত যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মী তৈরি করার ব্যবস্থা গ্রহন করা।
৪. তাজদীদে মিল্লাত বা সমাজ সংস্কারঃ
এ দফার করণীয়, আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ অহি-র বিধান অনুযায়ী সমাজের বুকে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো এবং এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সংশোধনের ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে আমরা নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চাই--
(১) শিক্ষা সংস্কারঃ
(ক) দেশে প্রচলিত ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বি-মুখী ধারাকে সমন্বিত করে আমরা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক একক ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা চাই। যেখানে দেশের প্রচলিত বিভিন্ন ধর্ম ও ইসলামী মাযহাবী পাঠ্য বইসমূহ ঐচ্ছিক হিসেবে সিলেবাসভুক্ত হবে।
(খ) ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিক্ষার পরিবেশ অথবা একই প্রতিষ্ঠানে পৃথক শিফটিং পদ্ধতি চালু করে উভয়ের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও পৃথক কর্মক্ষেত্র ও কর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা যরুরী এবং
(গ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে যাবতীয় দলাদলি ও রাজনৈতিক ক্রিয়া-কলাপ নিষিদ্ধ করা উচিত এবং প্রয়োজনবোধে সেখানে বয়স, যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করা আশু যরুরী।
(২) অর্থনৈতিক সংস্কারঃ
হালাল রুযী ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। অথচ সূদ-ঘুষ, জুয়া-লটারী যা ইসলামে হারাম ঘোষিত হয়েছে এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির নোংরা হাতিয়ার হিসেবে যা সর্বযুগে সকল জ্ঞানী মহল কর্তৃক নিন্দিত হয়েছে, সেই প্রকাশ্য হারামী অর্থ ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের মুসলিম সরকারগুলো সর্বদা চালু রেখেছে। এতে ধনীদের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে ও গরীবেরা আরও নিঃস্ব হচ্ছে। যার পরিণতি স্বরুপ সামাজিক অশান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে যোগ হয়েছে দেশী ও বিদেশী পুঁজিবাদী সূদখোর এনজিও সমূহের অপতৎপরতা। যারা হিংস্র অক্টোপাসের মত সমাজদেহকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে সাধারণ জনগণের ঈমান ও নৈতিকতা হরণ করছে এবং সাথে সাথে এই দেশটাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু ও পরমুখাপেক্ষী করে রেখেছে, যা সম্রাজ্যবাদীদের সুদূর প্রসারী রাজনৈতিক নীল-নকশারই অংশ বলে অনেকে মনে করেন। উপরোক্ত দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা হতে সমাজকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আমরা নিম্নোক্ত কর্মসূচীসমূহ গ্রহন করতে চাই-
(ক) শহর ও গ্রামে বায়তুল মালের সুষ্ঠু সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। (খ) সমাজকল্যাণমূলক ইসলামী প্রকল্পসমূহ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা। (গ) অনৈসলামী অর্থব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠন করা ও সরকারের নিকটে ইসলামী অর্থব্যবস্থা চালুর জন্য জোর দাবী পেশ করা। (ঘ) ব্যক্তি জীবনে যাবতীয় বিলাসিতা পরিহার করে 'অল্পে তুষ্ট থাকা'র ইসলামী নীতির বাস্তব অনুশীলন ও সকলের মধ্যে পরকালীন জওয়াবদিহির দায়িত্বানুভূতি তীব্র করা।
(৩) নেতৃত্বের সংস্কারঃ
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসৎ নেতৃত্ব আজ সমাজ জীবনকে বিষময় করে তুলেছে। শান্তিপ্রিয় সৎ নেতৃত্ব সর্বত্র মুখ লুকিয়েছে। এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য পূর্বে বর্ণিত শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক কারণ দুটি ছাড়াও নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে আমরা মৌলিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি:
(ক) দল ও প্রার্থীভিত্তিক বর্তমান নেতৃত্ব ব্যবস্থা।
(খ) সৎ ও অসৎ সকলের ভোটের মূল্য ও নির্বাচনের অধিকার সমান গণ্য করা।
(গ) দলীয় প্রশাসন, দুর্নীতিগ্রস্থ আমলাতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থা।
(ঘ) সরকার ও বিরোধী দলীও রাজনৈতিক পদ্ধতি এবং হরতাল, ধর্মঘট ও মিছিলের যথেচ্চ ব্যবহার।
উপরোক্ত বিষয়গুলো সামনে রেখে নেতৃত্ব সংস্কারের লক্ষ্যে আমরা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহ বিবেচনার জন্য জাতির নিকটে পেশ করতে চাই-
(ক) সর্বত্র দল ও প্রার্থীবিহীন নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা এবং নির্বাচক ও নির্বাচিতদের জন্য নির্দিষ্ট গুণাবলী নির্ধারণ করা।
(খ) প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করা এবং স্বাধীন ও ইসলামী বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
(গ) বিরোধী দলীয় দ্বি-মুখী রাজনৈতিক পদ্ধতি বাতিল করা এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল সদস্যকে একই পরিবারভুক্ত গণ্য করে ইসলামী শূরা পদ্ধতি অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা।
(ঘ) জনগণ ও সংসদ নয়, বরং আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হিসেবে ঘোষণা করা এবং তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ 'অহি'-র বিধান পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে সকল ক্ষেত্রে চুড়ান্ত সমাধান হিসেবে গ্রহন করা। মোটকথা মানুষের উপরে মানুষের প্রভুত্ব নয়, সবাই আমরা এক আল্লাহর গোলাম হিসেবে ভাই ভাই; এমন একটা সামাজিক মানসিকতা সৃষ্টি করতে এবং 'আমর বিল মা'রুফ ও নাহি আনিল মুনকার'(সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ) -এর মূলনীতি অনুযায়ী সমাজের বুকে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধে আমরা বদ্ধপরিকর। এজন্য সংগঠনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমরা নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন একদল ঈমানদার ও যোগ্য কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে চাই।
আয়ের উৎসঃ
যাকাত, ফিতরা ও ওশর আদায়। প্রতি স্তরের সদস্যদের এবং শাখা সমূহের নিয়মিত এয়ানত যা কেন্দ্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়। এছাড়া আছে উপদেষ্টা ও সুধীদের দান, যুবসংঘ প্রকাশনী এবং অন্যান্য বই, সাময়িকী, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি বিক্রয়লব্ধ আয়।
ব্যয়ের খাতঃ
সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া পাঠাগারের বই ক্রয়, গরীব ও মেধাবী ছাত্রদের সাহায্য, বন্যা ত্রাণসহ সমাজ সেবামূলক কাজে অংশগ্রহন ও আন্দোলনের সহায়ক বিভিন্ন বই, বুকলেট, বিজ্ঞাপন, সাময়িকী, প্রকাশনা ইত্যাদি।
আমাদের দাওয়াতঃ
'বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ' এদেশে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিজয় ও বাস্তবায়ন দেখতে চায়। এজন্য রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর তরীকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ইমারতের অধীনে পূর্ণ ইখলাছের সাথে 'দাওয়াত ও জিহাদ'-এর কর্মসূচী নিয়ে জামা'আতবদ্ধভাবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। অতএব কিতাব ও সুন্নাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে বিশ্বাসী মুমীন ভাইদেরকে এই জিহাদী কাফেলায় শামিল হয়ে জান ও মালের কুরবানী পেশ করার উদাত্ত আহ্বান জানাই
<আরো জানতে পড়ুন>
• গঠনতন্ত্র, কর্মপদ্ধতি
• আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন?
• ইক্বামতে দ্বীনঃ পথ ও পদ্ধতি
• ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন
• মাসিক আত-তাহরীক
• ত্রি-পাক্ষিক তাওহীদের ডাক
এছাড়াও যুবসংঘ প্রকাশনী, হাদীছ ফাউন্ডেশন ও আহলেহাদীছ আন্দোলনের অন্যান্য বই, বুকলেট, প্রচারপত্র এবং জুমুআর খুতবাসহ সংগঠনের বিভিন্ন প্রগ্রামের লেকচারসমূহ।
[কেন্দ্রীয় কার্যালয়ঃ
আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী (২য় তলা) নওদাপাড়া, পোঃ সপুরা, রাজশাহী, বাংলাদেশ] .
ওয়েবসাইটঃ

চরমোনাই পীর কি সত্যিই আমিরুল মুজাহীদ? যদি হয় তাহলে তা কিভাবে?



চরমোনাই পীরের নামের আগে আমিরুল মমুজাহিদিন লেখা দেখে আমার নানা কিছু প্রশ্ন করেছে।
আমি জবাব দিতে পারিনি।
পীরের মুরিদেরা আপনারা দেন। ০১) এই ব্যাটাকে আমিরুল মুজাহিদিন উপাধি দিল কে? ০২) এই ব্যাটা যদি আমিরুল মুজাহিদিন হয় তাহলে আল-কায়িদা, আইএস কি একে চোখে দেখেনা? ০৩) এই ব্যাটা আমিরুল মুজাহিদিন হওয়া সত্ত্বেও সারা দেশে বিনা বাঁধায় (পুলিশ প্রোটেকশনে) মাহফিল করে। আর কখনো এই ব্যাটা মুজাহিদ হিসেবে জেলে যায়নি। কারণ কি? ০৪) বাংলাদেশে আমিরুল মুজাহিদিন আছে অথচ শাইখ বারাক ওবামা বসে বসে আঙ্গুল চুষছেন। ঘটনা কি? ০৫) বর্তমানে মুজাহিদ মানেই বোমাবাজ। তো বাংলাদেশের শীর্ষ ১০০ জঙ্গীর তালিকায় এর নাম কি ০১ নম্বরে আছে (যেহুতু এই ব্যাটা আমিরুল মুজাহিদিন)? →গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল।

ডাঃ মরিস বুকাইলি যেভাবে মুসলিম হলেন।




ফ্রাঁসো মিতেরাঁ ১৯৮১-১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেণ্ট ছিলেন। তিনি আশির দশকের শেষের দিকে ফিরাউনের মমিকে নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য মিসরের কাছে অনুরোধ জানালেন। মিসরের সরকার তাতে রাজি হলে কায়রো থেকে ফিরাউনের লাশ প্লেনে করে প্যারিসে নিয়ে আসা হল। ফিরাউনের লাশকে ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্রের একটা বিশেষ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হল, যেখানে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সার্জনরা রয়েছে আর তারা ফিরাউনের মমির ময়নাতদন্ত করে সেটা স্টাডি করবে ও এর গোপনীয়তা উদঘাটন করবে। মমি গবেষণার প্রধান সার্জন ছিলেন প্রফেসর ড. মরিস বুকাইলি। থেরাপিস্ট যারা ছিলেন তারা মমিটাকে পুনর্গঠন অর্থাৎ ক্ষত অংশগুলো ঠিক করতে চাচ্ছিল, আর ড.মরিস বুকাইলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন যে, কীভাবে ফেরাউন মারা গিয়েছিল! আর কয়েক হাজার বছর ধরে কীভাবে লাশটা অক্ষত রইল। পরিশেষে তিনি ও তাঁর সহযোগিরা সারারাত ধরে লাশ গবেষণা ও পরীক্ষায় আত্মনিয়োগ করলেন। রাতের শেষের দিকে পরীক্ষাগারের রিপোর্ট আসলো। যাতে বলা হয়েছে তার শরীরে লবণের অংশ আছে আর ইহাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, সে পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল আর মৃত্যু বরণের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র (লোহিত সাগর) থেকে তোলা হয়েছিল তারপর লাশ দ্রুত মমি করা হয়েছিল। এখানে ফিরাউনের মমিটি প্রফেসর মরিসকে অবাক করে দিল, যে কিভাবে এই মমি অন্য মমিদের তুলনায় সুরক্ষিত অবস্থায় থাকল, যা এটা সমুদ্র থেকে তোলা হয়েছে। কারণ ভিজা পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে আর প্রতিটি আদ্র বা ভেজা বস্তুকে দ্রুত ধ্বংস করে দিয়ে থাকে। ড.মরিস ফাইনাল রিপোর্ট তৈরি করলেন, যাতে তিনি বললেন: এটা পৃথিবীবাসীদের জন্য বিজ্ঞানের একটা মহা আবিষ্কার। এরপর তিনি ফেরাউনের লাশের তথ্য উদঘাটনে নেমে পড়লেন। একজন ব্যক্তি তাকে বলল যে, মুসলমানদের কুরআনে নাকি ফিরাউনের ডুবে যাওয়া ও তার লাশ সংরক্ষণের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা আছে। এই ঘটনা শুনে ডা. মরিস বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং প্রশ্ন করতে লাগলেন, এটা কিভাবে সম্ভব? এই মমি পাওয়া গিয়েছে ১৮৮১ সালে, আর কুরআন নাজিল হয়েছে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে! আর প্রাচীন আরবেরা তো মমি করার পদ্ধতিই জানতো না, মাত্র কয়েক দশক আগে তা আমাদের হাতে আবিস্কৃত হয়। ড.বুকাইলি ফিরাউনের লাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে গভীরভাবে ভাবছিলেন যে, মুসলিমদের কুরআনে কিভাবে ফিরাউনের লাশ সংরক্ষণের কথা এসেছে? তিনি বাইবেলে ফেরাউনের লাশ সম্পর্কে জানতে চাইলেন।তিনি দেখলেন, বাইবেলে ফিরাউন কর্তৃক মুসার পিছু নেয়ার কথা বলা আছে কিন্তু ফিরাউনের লাশের পরিনতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলা নাই। তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করছিলেন আর ভাবতে ছিলেন যে, এটা কিভাবে ধারণা করা যায় যে, এই মমি যার সে মুসার (আ.)-এর পিছু নিয়েছিল? আর এটা কেমন করে সম্ভব যে, মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ বছর আগেই এটা সম্পর্কে জানতেন? ডা. মরিস সেই রাতে ঘুমাতে পারলেন না, তিনি তোরাহ (তাওরাত) আনালেন এবং সেটা পড়লেন। তোরাহতে বলা আছে, পানি আসলো এবং ফিরাউনের সৈন্য এবং তাদের যানবাহনগুলোকে ঢেকে দিল, যারা সমুদ্রে ঢুকল তাদের কেউই বাঁচতে পারল না। ড.বুকাইলি আশ্চর্য হয়ে দেখলেন যে, তাওরাতে লাশের সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। অতপর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তিনি মুসলিম দেশে যাবেন এবং সেখানে প্রখ্যাত মুসলিম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাক্ষাৎকার নিবেন ও আলোচনা করবেন। তিনি তথায় পৌছে ফিরাউনের লাশ ডুবে যাওয়া পরবর্তী সংরক্ষণের যে রেজাল্ট পেয়েছেন তা নিয়ে আলেচনা করেন, তখন একজন মুসলিম বিশেষজ্ঞ পবিত্র কুরআন খুললেন এবং আয়াতটা ড. বুকাইলিকে শুনালেন যেখানে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা বলেন, "অতএব, আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।"আল-কুরআন; সুরা:১০,আয়াত-৯২ তিনি এই আয়াতের দ্বারা খুবই প্রভাবিত ও অভিভূত হয়ে যান এবং কয়েক বছর ধরে আরবি ভাষা,আরবি সাহিত্য ও কুরআনের অনুবাদ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে যান। তিনি কুরআন গবেষণা করে দেখেন যে, আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বের কুরআন আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে পুরো সঙ্গতিপূর্ণ।কী আশ্চর্য,কী অবাক করা কথা! কুরআন মহাসত্য। আসমানী কিতাব! তিনি উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন যে, আমি ইসলামে প্রবেশ করেছি এবং আমি এই কুরআনে বিশ্বাসী। সুবহানাল্লাহ! ইসলাম গ্রহনের পর তিনি একটি মহামূল্যবান বই লেখেন যার নাম "বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান" যা পৃথিবীর ৫০টি নামকরা ভাষায় অনুবাদ হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। যা পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দেয়। (বাংলা ভাষায়ও বইটি পাওয়া যায় আপনারা পড়তে পারেন।) ডা. মরিস বুকাইলি ফ্রান্স ফিরে গেলেন এক ভিন্ন অবস্থায়। ফ্রান্সে ১০ বছর তিনি আর কোন ডাক্তারি প্রাকটিস করেন নি বরং এই সময়ে তিনি পবিত্র কুরআন নিয়ে গবেষনা করেছেন। সব শেষে তিনি পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারলেন যাতে বলা আছে, "এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" সুরা-৪১, আয়াত-৪২ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এভাবেই হেদায়াত দান করেন। আল্লাহ আমাদেরকেও কোরআন বোঝার ও তদানুযায়ি জীবন গড়ার তাওফিক দান করুণ। আমিন। তথ্য সূত্র: ইন্টারনেট,

প্রেম করার বিধি

বিবাহ বহির্ভুত নারী+পুরুষ/ বালক বালিকাদের 
সম্পর্ক স্থাপন করা কি বৈধ?
.
আমরা জানি কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময়
সর্বনিম্ন ২টা বিষয় নিয়ে বিবেচনা করতে
হয়।
একটা হলো ধর্মীয় দিক এবং অপরটি হলো
সামাজিক দিক।
তথাকথিত প্রেম ভালোবাসা কি ধর্ম ও সমাজ
স্বীকৃত?
আসুন আজ আমরা তা পর্যালোচনা করে
দেখি।
মাত্র ৪ অক্ষরে গঠিত এক শব্দ ভালবাসা।
যার মাঝেই লুকিয়ে পৃথিবির সকল সুখ।
এই ভালবাসা সৃস্টিগত। সকল সৃস্টিকুলের মাঝেই ভালোবাসা বিদ্যমান।
সৃস্টির শ্রেস্ট জীব মানুষ। আর তাই মানুষের ভালবাসার পরিধিও
বিশাল।
প্রথমেই বলে রাখি ভালোবাসা হলো সওয়াবের কাজ।
যদি তা বৈধ হয়।
ভালোবাসাই পৃথিবিকে শান্তিময় করে তোলে। আবার ডেকে আনে অশান্তি।
কেননা ভালোবাসা  ২ প্রকারের।
১.(পবিত্র)  বৈধ ভালোবাসা ও
২.(অপবিত্র)  অবৈধ ভালোবাসা।
বৈধ ভালোবাসা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা.  কে ভালোবাসা।
স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তানদের কে ভালোবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি।
অপরপক্ষে,
বিবাহের পূর্বে আধুনিক যুবক-যুবতীরা যে সম্পর্ক গড়ে তোলে তাকেই অবৈধ ও অপবিত্র ভালবাসা বলে।

কেন এটি অবৈধ?

আমাদের সমাজে বেগানা যুবক-যুবতীর প্রেম-ভালবাসার নামে
 যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি উত্তাল সাগরের উর্মিমালার মত বহমান রয়েছে
 তা সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ ও হারাম।
বিবাহের পূর্বে এরূপ প্রেম-ভালবাসা
শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়, বরং অবৈধ।
ইসলামের বিধি-বিধান অনুযায়ী কোন
যুবতী কোন অবস্থায় কোন যুবকের সান্নিধ্যে থাকতে পারেনা।
 উমর (রা:) হতে বর্ণিত,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
কোন পুরুষ যখন কোন নারীর সাথে একান্তে থাকে,
তখন তাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসেবে উপস্থিত হয় স্বয়ং
শয়তান।
 তাদের মাঝে ভাবাবেগকে উৎসাহিত করে এবং
উভয়ের মাঝে খারাপ কুমন্ত্রণা দিতে থাকে এবং সর্বশেষে
লজ্জাকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়।

এতে তারা নিজেরা যেমনি কঠিন গোনাগার হবে,
তেমনি তাদেরকে এই মেলামেশার সুযোগ দেয়ার
কারণে তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাকদেরকে হাদীস
 শরীফে দাইয়ুস বলা হয়েছে।
আরো বলা হয়েছে যে,
দাইয়ুস জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
তাই এইসব ব্যাপারে সকলের কঠোরভাবে সাবধান
হওয়া জরুরী এবং তা ঈমানের দাবী।
আর এই অবৈধ
 ভালবাসার প্রতিরোধের জন্যই আল্লাহ নর-নারীকে দিয়েছেন পর্দার বিধান।
এই বিধান নারী-পুরুষ উভয়ে পরিপূর্ণ রূপে পালন করলে সমাজে ঐ রকম অবৈধ
 ভালবাসার কোন অবকাশই থাকবে না। আমাদের সমাজের অনেকের
 আবার মন্তব্য যে, প্রেম-ভালবাসা নাকি বৈধ।
 তাদের উক্তি হল যে,
প্রেম পবিত্র, ভালবাসা পবিত্র। তাদের এই সব কথা সম্পূর্ণ ভুল,
নাজায়েয, অবৈধ, অপবিত্র এবং ইসলাম বিরোধী।
প্রেম-ভালবাসা কখনও বৈধ হতে পারে না।
বস্তুত: এ ধরনের প্রেম ভালবাসা সম্পর্ক ইসলাম সাপোর্ট করে না।
তবে হ্যা যে কেউ তার মনের মত জীবন সঙ্গীনী পছন্দ করে রাখতে পারে বটে।
 কিন্তু তাই বলে তার সাথে বিবাহের পূর্বে কোন রকম প্রেম-প্রেম খেলা শুরু
 করতে পারবে না।
কেননা বিবাহের ইচ্ছা থাকলেও বিবাহ না করা
পর্যন্ত এভাবে প্রেম-ভালবাসা করা গুনাহে কবিরা ও হারাম।
এমন কি
বিবাহের কথা পাকাপাকি হয়ে গেলেও আকদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন
প্রেম-ভালবাসা জায়েজ নয়। বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী হওয়ার পরই
কেবল প্রেম ভালবাসা করতে পারে এবং তা পবিত্র ও ছাওয়াবের কাজ।

কিছুদিন আগে একজন আপু তার এক ক্লাসমেটের কাহিনী শোনালো।
যা হুবহু নিম্নরূপঃ–
অনেকদিন পরে বান্ধবির সাথে দেখা হয়।
ভাল-মন্দ আলাপের এক পর্যায়ে সে আমাকে এভাবে বলতে শুরু করলঃ-
জানিস সারিরা কিছুদিন আগে আমি নানার বাড়িতে গিয়েছিলাম,
 ওখানে আমার কয়েকজন খালাতো বোনের সাথে দেখা হয়।
তাদেরকে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠি।
এই সেই অনেক গল্প হয়। তাদের মাঝে একজনের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম কিরে মোহনা! বর কি তোকে দেখছে?
তখন সে বলল, দেখছে মানে! আমাদের প্রতিদিনই ফোনে কথা হয়।
আমি বললাম, এটা ঠিক হয়নি। জাননা- বিবাহের পূর্বে প্রেম করা নাজায়েয, হারাম।
তখন তারা সবাই হেসে উঠল, তাদের এই হাসির কারণ কি আমি বুঝতে পারলাম না।
মোহনা বলল, আরে আমাদের বিয়ের সব কিছু ঠিক, এখানে আবার গুনাহের কি আছে।
তাছাড়া যদি বিয়ের আগে প্রেম না করি, তাহলে একে অপরকে জানব কেমন করে।
হঠাৎ অপরিচিত একজনের সাথে সংসার করব কেমন করে।
তাছাড়া প্রেম-ভালবাসা পবিত্র, তখন উপস্থিত সবাই এক সাথে বলল হ্যাঁ।
প্রেম ভালবাসা পবিত্র প্রমাণে  তারা যুক্তি প্রদান করলো।
তাদের যুক্তি হলোঃ- ইউসুফ-জুলাইখা প্রেম করছেন।
 তিনি নবী হয়ে যখন প্রেম করলেন তাহলে অবশ্যই অবশ্যই প্রেম পবিত্র।
আমি তাদেরকে অনেক বুঝালাম, তারা বলল, যদি সঠিক ও স্পষ্ট যুক্তি দেখাতে পারিস
তাহলে আমরা তোর কথা মেনে নেব।

দেখলেন তো তাদের যুক্তি, তাদের ধর্মীয় জ্ঞান না থাকার কারণে তারা
ইউসুফ-জুলাইখাকে দিয়ে যুক্তি দিয়েছে।
অথচ তারা জানেনা, ইউসুফ (আ:) এই ঘটনায়
 জড়িত কি না, জুলাইখার এই ভালবাসার রহস্য কি?
কত বছর আগে জুলাইখা ইউসুফ (আ:) কে স্বপ্নের মধ্যে সান্নিধ্য লাভ করেছেন? (সঠিক ইতিহাস সকলেই জেনে নিবেন)

তার ভালবাসা বর্তমান যুগের যুবক-যুবতীর প্রেম ভালবাসার মত কি না?
আর এই না জানার জন্যই তারা প্রেম ভালবাসা পবিত্র বলে অবৈধ প্রেম করে বেড়াচ্ছে।
এ ধরনের অবৈধ প্রেম-ভালবাসায় জড়িত হয়ে অনেক তরুণ-তরুণীর জীবন অকালে ঝড়ে পড়ছে।
 তাদের লেখা-পড়ার ক্ষতি হচ্ছে, সময়ের অপচয় হচ্ছে।
ক্যারিয়ার নষ্ট হচ্ছে, সাজানো সংসার ভেঙ্গে চুরমাড় হচ্ছে।

 সবচেয়ে বড় কথা হল- ঈমানের জ্যোতি নিভে যাচ্ছে, দীনদারিত্ব নষ্ট হচ্ছে।
আসলে ভালবাসা বলতে যা বোঝায় ,
তা বর্তমান যুবক-যুবতীর এই ভালবাসা নয়।
তাদের ভালবাসার মূল মিনিং হচ্ছে অনেক সময় দেখা যায় তাদের এই ভালবাসায়
অভিভাবকদের সম্মতি থাকে না বিধায় তাদের মুখে চুনকালি দিয়ে পালিয়ে যায়।
আবার কিছু দিন পরে যখন প্রেমের আবেগ নিশা টুটে যায়, তখন কালো মেঘের ছায়ার মত
নেমে আসে নানাবিধ অস্বস্তি ও যন্ত্রণা।
তখন তড়িৎ গতিতে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। তারা সর্বনাশা প্রেমে একুল-অকুল সবি হারায়।

তারা কি জানেনা! প্রেম কি? ভালবাসা কি? তার প্রতিফল কি?
 কেন জানবে না, হ্যা তারা জানে, প্রেম এক মরণাত্বক যন্ত্রণার নাম।
একটি হৃদয় বিদারক সংক্রামক রোগ, যা অত্যন্ত ছোয়াছে বড়ই মারাত্মক এ প্রেম।
যে একবার এ পথে পা বাড়িয়েছে সে কখনও সুখের ছায়া দেখেনি।
কেননা তাতে রয়েছে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নারাজী।
প্রেমের প্রধান উৎস হচ্ছে আবেগ আর প্রচন্ড এই আবেগই হচ্ছে প্রেমের চালিকা শক্তি।
কিন্তু গভীর এই আবেগকৃত প্রেমের গভীরতা যখন থেমে যায়, তখন প্রেমের বদলে জন্ম নেয় মোহ।
কচুপাতার পানির মত এক সময় এই মোহও ঝড়ে পড়ে।
তখন স্বপ্ন সাধ, আশা, ভালবাসা সবই হয়ে যায় চুর্ণ।
কেউ কেউ আবার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
কেউ প্রতিশোধ নেয় (এসিড, খুন বা যুবতীর বিবাহ ভঙ্গন) কেউ চিরকুমার থেকে যায়, কেউ করে আত্মহত্যা।
আরে বাবা এত #ভয়ঙ্কর রাস্তার নামই কি ভালবাসা??
তারপরও বুঝে আসে না কি করে যে বিনা বিবেচনায় আজকের তরুণ-তরুণীরা তা বরণ করে নেয়।
যারা অবৈধ প্রেমের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে তাদেরকে বলছি এ হারাম পথে কেন নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চান?
খোদার পথে জীবন পরিচালিত হয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ কর।
যেখানে থাকবে না কোন অশান্তি, কোন কষ্ট, শুধু থাকবে সুখ আর সুখ, শান্তি আর শান্তি, বর্তমান আধুনিক বিশ্বে
ভালবাসা বলতে যা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে ইসলাম বিরোধী।
কিন্তু শত আফসোস হলেও সত্য যে, বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী,
তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী বিশেষ করে আধুনিক শিক্ষিত ও সচেতন স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটির
ছাত্র-ছাত্রীরা এই ভালবাসা নামক মরণব্যাধিতে আক্রান্ত।
যার ফলে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে হাজারো জীবন।
প্রতিনিয়ত এসিডে দগ্ধ হচ্ছে হাজারো নারী। আধুনিক বিশ্বে আধুনিক প্রেমের বেলায় এটি কি সত্য।
তাই বলতে হয় এটা ভালবাসা নয় এটা মরণ নেশা।

ভালবাসার নামে দেশের ভবিষ্যত সম্ভাবনাময় যুব সমাজকে ধ্বংস ও নিঃশেষ এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
 যার ফলে পরিবার, সমাজ সবই হচ্ছে কলংকিত, অধ:পতিত। যার জলন্ত প্রমাণ প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায়
চোখ রাখলেই দেখতে পাই।
তারপরও কি আমরা সে পথ থেকে ফিরে আসতে পারি না? সময় থাকতে তা থেকে
 শিক্ষা নিতে পারি না? হ্যা ভালবাসা বড় মহৎ একটি গুণ। মহান আল্লাহপাক এই ভালবাসাকে একশত ভাগ করে
 নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখে মাত্র একভাগ সারা বিশ্বে সকল প্রাণী জগতে দান করে দিয়েছেন। যার দ্বারা মা
সন্তানদেরকে ভালবাসে, স্বামী-স্ত্রীকে ভালবাসে, আত্মীয় স্বজন একে অপরকে ভালবাসে।
 বাকি নিরানব্বই ভাগ ভালবাসা মহান আল্লাহ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন।
 কিয়ামতের দিন তা দ্বারা তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করবেন।
 মহান আল্লাহ প্রেম-ভালবাসা নামক ধ্বংসাত্বক রোগের প্রতিরোধের জন্য পর্দাপ্রথা দিয়েছেন।
এরই মাধ্যমে বাচানো সম্ভব হবে ব্যক্তি, পরিবার সমাজ এবং দেশকে রক্ষা করা।
 আল্লাহপাক নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন-
وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
তোমরা জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেদের প্রদর্শন করে বাহিরে বের হয়ো না। (আল-কুরআন)
যারা অবৈধ ভালবাসাকে পবিত্র বলতে দুঃসাহস দেখান এবং বলেন প্রেম পবিত্র।
 শালিনতার সাথে প্রেম করলে তা নাজায়িয হবে কেন?
তাদেরকে আবারও বলছি, এটা আপনাদের নিছক মুর্খতা ও সম্পূর্ণ অমূলক ভুল এবং ভুল ধারণা।
অবৈধ ভালবাসা কখনো পবিত্র হতে পারে না এবং পবিত্র হবার কোন পথও নেই।
যুবক ও যুবতীর ভালবাসা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। এক মাত্র বৈবাহিক সম্পর্কের পর পরই প্রেম-ভালবাসা পবিত্র হতে পারে।
বিয়ের আগে তা পবিত্র নয়, হারাম ও কবিরা গুনাহ। যদি বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েও যায়
তবুও এ কাজে লিপ্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না আকদ হয়েছে। এমন কি আকদের পূর্ব
পর্যন্ত প্রেম সংক্রান্ত গোপন চিঠি আদান প্রদান, দেখা-সাক্ষাত, ফোনে কথা-বার্তা বলা সবই  নিষিদ্ধ, কবীরা গুনাহ।
.
এতকিছুর পরেও যদি কেউ প্রেম কে বৈধ বলে প্রমান করার চেস্টা করে, যদি সচেতন অভিভাবকদের কে
অচেতন বলে দাবী করে।
যদি অভিভাবকদের মনোভাব পরিবর্তন করার জন্য উপদেশ দেয়।
 তবে তাদেরকে  আমি সেই সকল লোকদের দলভুক্ত বলে বিবেচনা করব। যারা কিছুদিন পূর্বে  মেয়েদের ছবি ফেসবুকে প্রকাশের
পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
 সময়ের পরিবর্তনে যারা প্রকাশ্য চুমু খাওয়ার পিকচার আপলোড করে দেখিয়েছে।
যারা পশু-প্রাণীদের মত যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে প্রচারণা চালাচ্ছে।
কেননা তারাও মাত্র কয়েকদিন পূর্বেই এরকম প্রেম কে বৈধ প্রমানের অপচেস্টা চালিয়েছিল।
আজ তারা প্রকাশ্যে তাদের নোংরামির দৃশ্য দেখাচ্ছে।
.
উপরোক্ত আলোচনার আলোকে কোন সাধারন মস্তিষ্কের মানুষ প্রেম কে বৈধ বলতে
পারে না।
আর যদি বলে তাহলে তার সাইকোলজিক্যাল সমস্যা আছে বলে বিবেচিত হবে।
.
আসুন আমরা এই অবৈধ সম্পর্ক কে না বলি।
শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে ভূমিকা রাখি।
আমাদেরকে সঠিকভাবে বাচতে হলে দেশ, জাতি ও পরিবারকে বাঁচাতে হলে
এই অবৈধ প্রেম ভালবাসার পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানদের সতর্ক হওয়া অতীব জরুরী।
পরিশেষে বলব, যদি আমরা যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের শরীয়ত সম্মতভাবে বৈবাহিক বন্ধনের
ভিত রচনা করি তাহলে ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতে সুখী হতে পারব।
দেশ ও সমাজকে পাপাচার থেকে
মুক্তি দিতে পারব এবং সামনে আগত প্রত্যেক শিশুকে সুন্দর ভবিষ্যত এবং কাঙ্খিত দেশ সমাজ ও পরিবেশ উপহার দিতে পারব।
তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং যুবসমাজকে সঠিকভাবে বাঁচার জন্য সুন্দর পথ দেখাই।